সিএমপিতে ঈদ টার্গেট করে সক্রিয় হচ্ছে গাড়ী চোর সিন্ডিকেট।

PicsArt_05-14-04.35.48.png

জাহাংগীর আলম (শুভ)
সামনে রমজান ও ঈদুল ফিতর ঘনিয়ে আসছে,সেই সাথে সক্রিয় হতে আরম্ভ করেছে গাড়ীচোর সিন্ডিকেট।প্রতিদিন কোথাওনা কোথাও গাড়ী চুরির ঘটনা ঘটছে।তবে তা বেশীবৃদ্ধি পায় ইদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে।সে তুলনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সিএমপি সর্তক অবস্থান গ্রহন করে।
নিত্যনতুন কৌশলে প্রতিপক্ষ। ট্র্যাকিং পদ্ধতি থাকলেও গাড়ি চুরি থেমে নেই।এই সিন্ডিকেটের কৌশলের কাছে কি মুখ থুবরে পরবে সব কৌশল?। নগরীতে প্রায়ই গাড়ী চুরি হয়,তবে সিএমপির পুলিশকে গাড়ী চোর সিন্ডিকেট কি তাদের আগাম আগমনী বার্তা দিচ্ছে?

৮ মে নগরীর ডবলমুড়িং থানাধীন আগ্রাবাদ পান্না পাড়া এলাকায় আকবর আলীর বালুর মাঠে গান গাইতে এসে, প্রাইভেট কারটি খুইয়েছেন সাবেক এক পুলিশ কর্মকর্তার মেয়ে কন্ঠশিল্পী নির্জনা শারমিন।

স্টারলেট চট্র-মেট্রো-গ-১১-১২৩৩ গাড়ীটি ৮ মে রাত ৩:৮মি: মাঠ থেকে চুরি যায়।নিরাপওায় সিসি ক্যামেরা বসানো হলে ও শেষ রক্ষা হয়নি। নির্জনা রাত ৩:১৫মি গাড়ীর কাছে এসে দেখেন গাড়ী হাওয়া। ডবলমুড়িং থানা পুলিশ এসে মাঠে বসানো সিসি টিভির ফুটেজ পরীক্ষা করে চোরকে সনাক্ত করতে বা গাড়ীটি উদ্ধার করতে পারেনি।তবে নির্জনার পরিবারের অভিযোগ, তদন্তকারী কর্মকর্তার গাফিলতির কারনে গাড়ী বা চোরকে ধরা সম্ভব হয়নি।তারা বলেন:-ফুটেজ দেখে একজনকে স্হানীয়রা সনাক্ত করলে বাসায় গিয়ে পাওয়া যায়নি,সে ব্যাচেলর। না পেয়ে তাকে সহ ৩জনকে বিকেলে থানায় দেখা করতে বলে পুলিশ চলে এলে ও কোনরুপ আটকের চেষ্টা করেনি।অভিযোগ কারী প্রশ্ন তুলেন, তাহলে সিসি টিভির ফুটেজে তিনি কি দেখলেন? কেন ৩ ব্যক্তিকে থানায় আসতে বলা হলো,তারা কি আসামী? কেন সনাক্ত কারীকে ধরার চেষ্টা করা হলোনা? ৩জনের ১জন এলো বাকী ২জন আসেনি,আগত ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হলো .কেন? আর গাড়ী চুরি হলো রাত ৩/৪টায়। তিনি অভিযোগ নিলেন সন্ব্যায় বুঝলাম না।১০ই মে মামলা ডিবিতে প্রেরন করা হয়। (ডবলমু:-মামলা নং-১৪,ধারা ৩৭৯)এ ব্যাপারে তদন্তকারী এস,আই আলাউদ্দিন বলেন :-অভিযোগ সত্য নয়, ফুটেজে স্পস্ট বুঝা যাচ্ছে না।তবে আগত ব্যক্তিকে সন্দেহ মূলক মনে হয়নি। তিনি বলেন বাদী একজনকে সন্দেহ করলে তাকে ধরে আনতে বলেন আমি তা করিনি,কেন না,তদন্ত ব্যতিত কাউকে অযথা হয়রানী করা পুলিশের কাজ নয়।মামলাটি ডিবিতে পাঠানো হলে ডিবির চৌকশ অফিসার হিসেবে পরিচিত তদন্তকারী কর্মকর্তা জনাব ,মোজাম্মেল বলেন :-ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। তাতে গাড়ী পাকিং স্পটটিতে অনুষ্ঠানের লাইটিংয়ের আলোর কারনে গাড়ী চুরি করার বা কারো চেহারা সনাক্ত করার কোন উপায় নেই।শুধু রাস্তা দিয়ে চালিয়ে নেওয়ার সময় অন্য গাড়ীর আলোতে কয়েক জনকে দেখা যায়,তবে আবছা।আর বাদী ২জনের নাম আমাদের জানালে এজাহারেকোন আসামী করা হয়নি। একজনের সাথে লেনদেন সংক্রান্ত শত্রুতা রয়েছে,বাকি জন গাড়ীর সার্ভিসিং করতো। তবু আমি কিছু ক্লু খুজছি।প্রয়োজন হলে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।

রমজান মাসে ঈদকে সামনে রেখে অনান্য অপরাধের পাশাপাশি গাড়ীচুরির ঘটনা বৃদ্ধি পায়। গাড়ী ভাড়া নিয়ে যাএীবেশে কৌশলে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিলিয়ে ড্রাইভারকে খাওয়ায়। জ্ঞান হারালে তাকে ফেলে রেখে গাড়িটি নিয়ে পালায়।অনেক ক্ষেএে প্রানে মেরে ফেলে।

নির্ভর যোগ্য একটি সূএ জানায়: ড্রাইভারের চাকুরীর নাম করে নিয়োগ পেতে ভুয়া নাম, ঠিকানা ও কাগজপত্র জমা দেয়। পরে গাড়ির নকল চাবি বানিয়ে নিচ্ছে। এক পর্যায়ে তারা গাড়ি চুরি করে চলে যাচ্ছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে চালকরা চাকরি ছেড়ে দিয়ে গাড়িটি নজরে রাখে। সুযোগ বুঝে বানানো চাবি দিয়ে গাড়ি চুরি করছে। এরা বিভিন্ন মার্কেট, শপিংমল, হাসপাতাল ও রেস্টুরেন্টের মতো ব্যস্ততম এলাকায় ওঁৎ পেতে থাকে।একজন মাস্টার চাবি দিয়ে গাড়ির লক খুলতে থাকে। অন্যরাঅনুসরণ করে গাড়ির মালিক কিংবা চালককে। অল্প সময়ের মধ্যেই ছিনতাই চক্র লক খুলে গাড়ি নিয়ে হাওয়া হয়ে যায়। চট্টগ্রামে বেশকিছু গাড়ী চোর সিন্ডিকেট রয়েছে।তবে এর সঠিক হিসাব গোয়েন্দা বিভাগের হাতে নেই।চোরাই গাড়ী গুলো অল্পদামে মাদক ব্যবসায়ী, ছিনতাইকারী,সন্ত্রাসী বাহিনী কিনে নেয়। চোরাই গাড়ীগুলো দ্রুত স্হান পালটে চলে যায় গ্রামে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, সিএমপির এক উদ্ধওন কর্মকর্তা টাইমস বিডিকে বলেন:- চট্টগ্রামে চোরাই গাড়ী কোন গ্যারেজ মালিক কিনে তার তালিকা আমাদের কাছে আছে।তবে তাদের সাইনবোর্ড ভারী।লেজ ধরবো,কামড় মারে। রাজনৈতিক নেতাদের ডোনার।তাই জেনে চুপ।
চোর চক্রের কিছু সদস্য গ্রেফতার হলেও মূল হোতারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

গড়ে সিএমপিতে মাসে ১৫-২০ টি গাড়ী চুরি হয়। থানায় অভিযোগের সংখ্যা কম। অধিকাংশ চুরির ঘটনায় ক্ষতি গ্রস্তরা থানায় মামলা কিংবা জিডি করেন না। ফলে গাড়ি চুরির প্রকৃত পরিসংখ্যান জানা সম্ভব হয় না। তবে বেশির ভাগ গাড়ি বিক্রি হচ্ছে অনলাইনে। গাড়ীর কাগজ পএ এমন ভাবে তৈরী হয়। অরিজিনাল মনে হলেও সবই নকল। গাড়ির রেজিস্ট্রেশনও পাল্টে ফেলা হচ্ছে। খুব কাছ থেকে না দেখলে এটা ধরা মুশকিল। গোপন সূএে জানা যায়,এখন গাড়ী চুরিতে ঝামেলা কম লাভ বেশী।কারন হলো যাদুকরী আধুনিক প্রযুক্তির পাঞ্চিং মেশিন। পাঞ্চিং মেশিন দিয়ে গাড়ির চেসিস নম্বর তুলে নতুন চেসিস নম্বর বসিয়ে কাগজপত্র তৈরি এবং পরে তা বিক্রি করা হচ্ছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই চক্রগুলো মাস্টার চাবি দিয়ে গাড়ি লকখুলে। এসিড দিয়ে গাড়ির লক খুলেও গাড়ি চুরি করা হয়। অনেক সময় গাড়ি চুরি করে বিভিন্ন বাসার ভালো কার পার্কিং ভাড়া নিয়ে গাড়ি রাখা হচ্ছে। বিভিন্ন থানায় গাড়ি চুরির ঘটনায় মামলার হার কম।

ঈদকে সামনে রেখে বিভিন্ন অপরাধের পাশাপাশি গাড়ীচোর সিন্ডিকেট চক্রসক্রিয় হয়ে উঠেছে,এই সিন্ডিকেট
যে সক্রিয় তার প্রমানতো রমজানের আগেই দেখা যাচ্ছে।
এমতাবস্থায় তাদের প্রতিরোধ এবং চুরিকৃত গাড়ী উদ্ধারে কি পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন,সিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার ক্রাইম এন্ড অপারেশন দায়িত্ব প্রাপ্ত আমেনা বেগমের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন:-আমরা প্রত্যেক বিষয়ের উপর নজর রাখছি,আমরা দায়িত্ব দিয়ে টীম ভাগ করে দিয়েছি।দক্ষ অফিসার দ্বারা টীমওর্য়াক করছে,সফলতা পাচ্ছি। আপনার নজরে আনা চুরিকৃত গাড়ীর বিষয়টি আমি খোজ নিতে বলছি।বিষয়টি আমার নজরে আনার জন্য ধন্যবাদ।

Comments

comments

Top