আমার বাবার রক্ত লেগে আছে: ডা. নুজহাত চৌধুরী

bg-nujhat-220180505204003.jpg

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. আলীম চৌধুরীর তনয়া ডা. নুজহাত চৌধুরী বলেছেন, ‘তোমরা চাকরি পেয়ে যে চেয়ারে বসবে, সেই চেয়ারে আমার বাবার রক্ত লেগে আছে। কোটা সংস্কার নামে যেভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা হয়েছে আমার মুক্তিযোদ্ধা বাবারা যদি বেঁচে থাকতেন, সেটি মেনে নিতে পারতেন না।’

শনিবার(০৫ মে) বিকেলে আমার মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননার প্রতিবাদে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের স্থায়ী অধিকার সংরক্ষণ আইনের সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদানের দাবিতে মুক্তিযোদ্ধা-জনতা সংহতি মহাসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

নগরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও পরিবার সমন্বয় পরিষদ, চট্টগ্রামের উদ্যোগে সমাবেশে ডা. নুজহাত চৌধুরী বলেন, ‘আমি নিজেই ২০তম বিসিএসে দ্বিতীয় হয়েছি। আমার কোনো সার্টিফিকেট নেই, আমার কোনো কোটা লাগে নেই। আমি নিজ যোগ্যতায় দ্বিতীয় হয়েছি। তোমরা কোটা সংস্কার চেয়েছো প্রধানমন্ত্রী তা বিবেচনায় নিয়েছেন। কিন্তু কোটা সংস্কার করতে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের যারা গালি দিয়েছো, রাজাকার লিখেছো, আবার যদি যুদ্ধ হয় তাহলে তুমি তো এক নম্বর রাজাকার হবে।’

আবেগাপ্লুত হয়ে ডা. নুজহাত চৌধুরী আরও বলেন, ‘কোটা সংস্কার নামে মুক্তিযোদ্ধাদের যেভাবে অপমান করলো এ জন্য আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে ক্ষমা চাই। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরে কোটা সংস্কার আন্দোলনে শিক্ষা্র্থীদের পিঠে -বুকে ‘আমি রাজাকার’লেখাটি দেখে জীবনে প্রথম মনে হয়েছে বাবা মারা গিয়ে বেঁচে গেছেন।’

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে মুক্তিযোদ্ধা-জনতা সংহতি মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘১৯৭১ সালে আলবদর বাহিনীরা বিশ্বাস ঘাতকতা করেছিলো। কোটা সংস্কারের নামে বিভ্রান্ত হয়ে হওয়া আপনারা ঠিক একই কাজটি করলেন। এটি আমাদের জন্য দুর্ভাগ্য।’

রাজনীতিবিদ হিসেবে আমার জন্যও দুর্ভাগ্য বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

নগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মোজাফফর আহমদের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন আন্তজার্তিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার ড. তুরিন আফরোজ, সংসদ সদস্য ওয়াসিকা আয়েশা খান, মুক্তিযোদ্ধা মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ।

Comments

comments

Top