কোটা সংস্কার ৩ নেতার চোখ বেঁধে গ্রেফতারের চেষ্টা !সংবাদ সম্মেলন

111-2-5.jpg

গামছা দিয়ে চোখ বেঁধে গাড়িতে তোলা হয় বলে জানিয়েছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় তিন নেতা। কোনো নির্যাতন করা হয়নি। তুলে নেওয়ার দুই ঘণ্টা পর পুলিশ ছেড়ে দিলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান ওই তিন নেতা।

সোমবার বেলা পৌনে একটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রবেশ ফটকের সামনে রিকশা থেকে ওই তিন নেতাকে নামিয়ে মাইক্রোবাসে করে পুলিশ তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁরা হলেন, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের তিন যুগ্ম আহ্বায়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র নুরুল্লাহ নূর, এমবিএর (ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগ) ছাত্র রাশেদ খান এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র ফারুক হোসেন।

দুই ঘণ্টার মধ্যে তাঁদের ছেড়ে দেয় পুলিশ। এর প্রতিবাদে আন্দোলনকারীরা বিকেল চারটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মিছিল করেন।

পুলিশ ছেড়ে দেওয়ার পর বেলা সোয়া তিনটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সংবাদ সম্মেলন করেন ওই তিন নেতা। তারা বলেন:- গামছা দিয়ে চোখ বেঁধে পৌনে একটার দিকে তাঁদের একটি গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয়। চোখ খুলে দেওয়ার পর দেখেন, তাঁরা একটি কক্ষে। সেখানে তাঁদের বলা হয়, তাঁদের কিছু ভিডিও ফুটেজ দেখানো হবে। কিন্তু তাঁদের কিছুই দেখানো হয়নি। তিন নেতা আরও বলেন, পরে তাঁদের নাম-ঠিকানা নিয়ে পৌনে তিনটার দিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তাঁরা জানান, মিন্টো রোডে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে তাঁদের নেওয়া হয়েছিল। এ সময় তাঁদের কোনো নির্যাতন করা হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা আরও জানান, বেলা ২টা ৫৫ মিনিটে তাঁরা সিএনজি চালিত অটোরিকশায় করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসেন। তাঁদের দেখে অন্যরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে স্বাগত জানায়। আন্দোলনকারী তিন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, তাঁরা ও তাঁদের পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খানের অভিযোগ, তাঁর বাবাকে ঝিনাইদহ সদর থানায় তুলে নিয়ে হয়রানি করা হয়। তাঁর বাবা একজন দিনমজুর।

ওই তিন নেতাকে তুলে নেওয়ার আগে আজ বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে পরিষদ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আগামী দুই দিনের মধ্যে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার করার দাবিজানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে ওই তিনজনই উপস্থিত ছিলেন।

এক প্রত্যক্ষদর্শী হাসপাতালের ফটকের উল্টো দিকে খাবারের দোকানের কর্মচারী মো. সালাউদ্দিন। তিনি বলেন, মোটরসাইকেল ও গাড়ি থেকে নেমে সাত-আটজন ওই রিকশার সামনে দাঁড়ায়। তারা তিনজনকে রিকশা থেকে নামাতে গেলে কিছুটা ধস্তাধস্তি হয়। পরে তিনজনের প্রত্যেককে দুই পাশ থেকে দুজন করে ধরে গাড়িতে তুলে নিয়ে দ্রুত চলে যায়।

Comments

comments

Top