চট্রগ্রামে সুদীপ্ত খুনি গ্রেফতার

9c024f0b07bd5cbd0d078266d8f87b93-5a0bc8b98405b.jpg

চট্টগ্রামে ছাত্রলীগের নেতা সুদীপ্ত বিশ্বাস হত্যার আগে ছক আঁকা হয়। খুনিরা সেই ছকেই সুদীপ্তকে খুন করে বেরিয়ে আসেন। পুলিশ বলছে, খুনের ছক আঁকেন রুবেল দে নামের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের আরেক কর্মী। সবার কাছে তিনি চশমা রুবেল নামে পরিচিত। গত বুধবার রাতে নগরের মুরাদপুর মোড় থেকে রুবেলকে গ্রেপ্তার করে সদরঘাট থানার পুলিশ।

পুলিশ বলছে, সুদীপ্ত হত্যার অন্যতম পরিকল্পনাকারী রুবেল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন তিনি। তবে কেন, কী কারণে কোন ‘বড় ভাইয়ের’ নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড, তা প্রকাশ করেননি। এ জন্য তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে আদালতে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছে পুলিশ। আগামী রোববার তা শুনানির জন্য রয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া রুবেল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কর্মী। তিনি সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেন। তবে দলের এক জ্যেষ্ঠ নেতাকে লাঞ্ছিত করার দায়ে ২০১৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়নি। এ ছাড়া ২০১৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত তাপস সরকার হত্যা মামলারও আসামি তিনি। এই মামলায় ২০১৬ সালের ২ মে রুবেলসহ ২৯ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। রুবেল বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের স্নাতকোত্তরের ছাত্র।

গত বছরের ৬ অক্টোবর সদরঘাট থানার দক্ষিণ নালাপাড়ার বাসা থেকে ডেকে নিয়ে সুদীপ্ত বিশ্বাসকে পিটিয়ে খুন করা হয়। নগর ছাত্রলীগের সহসম্পাদক সুদীপ্ত আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। এই ঘটনায় তাঁর বাবা মেঘনাথ বিশ্বাস বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় সাত-আটজনকে আসামি করে মামলা করেন। রুবেলসহ এই মামলায় পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদরঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রুহুল আমিন বলেন, আসামিদের মধ্যে মোক্তার হোসেন ও ফয়সাল হোসেন আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। বাকি দুই আসামি খাইরুল নুর ও আমির হোসেনও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। জবানবন্দিতে দুই আসামি বলেছেন, লালখান বাজার এলাকার এক বড় ভাইয়ের নির্দেশে সুদীপ্তকে খুন করা হয়। আর পরিকল্পনাকারী হিসেবে ছিলেন রুবেল দে, আইনুল কাদেরসহ কয়েকজন।

হত্যাকাণ্ডের পর ছাত্রলীগের একটি পক্ষ এ ঘটনার জন্য লালখান বাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম ওরফে মাসুমকে দায়ী করেন। কিন্তু তিনি তা অস্বীকার করেন।

Comments

comments

Top