অনেকদিন খেলতে চাই বলেই বিশ্রাম: সাকিব আল হাসান

shakib.jpg

সাকিব আল হাসান

প্রশ্ন : হঠাত্ টেস্ট থেকে বিরতি নেওয়ার সিদ্ধান্তটা কেন নিলেন?

সাকিব আল হাসান : সব থেকে বড় কারণ হচ্ছে, আমি মনে করি আমার আরো বেশ অনেকদিন খেলা বাকি আছে। আমি যদি অনেকদিন খেলতে চাই এবং ভালোভাবে খেলতে চাই, তাহলে এই বিশ্রামটা আমার জরুরি। আমি যেটা অনুভব করি, এভাবে খেলতে থাকলে ১-২ বছরের বেশি খেলতে পারব না। ওভাবে খেলার থেকে না খেলা, আমার কাছে ভালো। যতদিন খেলব, ততদিন যেন ভালোভাবে খেলতে পারি। এই বিরতিটা পেলে আমি আবার তরতাজা ও মানসিকভাবে চাঙা হয়ে ফিরলে হয়তো পরের পাঁচ বছর আমার টেনশন ছাড়া খেলা সম্ভব হবে।

প্রশ্ন : বোর্ডকে রাজি করানো খুব কঠিন ছিল?

সাকিব আল হাসান : খুব যে কঠিন ছিল বোর্ডকে বোঝানো, তা নয়। সুবিধা যেটা ছিল যে, আমি যখন কথা বলেছি, যাদের সঙ্গে বলেছি, আমার দৃষ্টিভঙ্গিটা বলার পর মনে হয়নি যে এটি অনৈতিক কিছু। সে কারণেই তারা হয়তো এটি গ্রহণ করেছে।

প্রশ্ন : টেস্ট তো আমরা বেশি খেলি না। আপনি টি-টোয়েন্টি বা ওয়ানডে থেকে না চেয়ে টেস্ট থেকে কেন বিরতি চাইলেন?

সাকিব আল হাসান : সীমিত ওভারের খেলা ১ ঘণ্টার হয় বা ৩ ঘণ্টার হয়। টেস্ট ম্যাচ ৫ দিনের হয়, প্রস্তুতি আরো ১০-১৫ দিনের হয়, প্রস্তুতি ম্যাচ ৩ দিনের থাকে। তো একটি টেস্ট সিরিজ থেকে বিশ্রাম নিলে পাওয়া যায় এক মাসের বিরতি। টি-টোয়েন্টি থেকে বিশ্রাম নিলে পাওয়া যায় ৩ দিনের বিরতি, ওয়ানডে সিরিজ থেকে বিশ্রাম নিলে পাওয়া যাবে ৭ দিনের বিরতি। আমার একটু বড় বিরতি দরকার। এই কারণেই টেস্ট সিরিজে বিশ্রাম।

প্রশ্ন : একটা সমালোচনা হচ্ছে যে, আপনি টি-টোয়েন্টিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

সাকিব আল হাসান : এসবে প্রতিক্রিয়াই দেখাই না। কারণ আমার শরীর আমি বুঝতে পারব যে কতটা ধকল যাবে। এই যে বাইরের টি-টোয়েন্টি থেকে কেন বিরতি নিলাম না, এই প্রশ্নগুলো আসলে একটু অবাকই লাগে। কারণ আমি যখন বাইরের টি-টোয়েন্টি খেলি, তখন না কোনো চাপ আছে, না কোনো ভাবনা আছে। আমার কছে মনে হয় হলিডে ধরনের। সাথে একটা অভিজ্ঞতাও হয়। অর্থনৈতিক দিক অবশ্যই অনেক গুরুত্বপূর্ণ, সেটিও থাকে। টেস্ট ম্যাচে আমার যেটা হয় যে, যেহেতু আমি ব্যাটিং-বোলিং দুটিই করি, চারটা ইনিংসেই আমার অবদান রাখার দরকার হয়। দলও আশা করে।

প্রশ্ন : টেস্ট ক্রিকেটকে একেবারেই বিদায় জানাতে চাচ্ছেন, এমন কিছু ভাবছেন?

সাকিব আল হাসান : অবশ্যই টেস্ট খেলব। কেন খেলব না! আমার ইচ্ছে আছে, সবার পরে টেস্ট থেকে অবসর নেব। তার আগে টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে থেকে অবসর নেব। লোকে যেমন সচেতন, আমিও সচেতন যে কী করলে ভালো হয়।

প্রশ্ন : আপনার না থাকাটা দলের ওপর কত বড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে হয়?

সাকিব আল হাসান : আমার থাকা না থাকায় খুব বেশি প্রভাব পড়বে না। কারণ দুনিয়াতে কোনো জিনিসই কারো জন্য অপেক্ষা করে না। আমি আশা করি এবং মন থেকে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ অনেক ভালো করবে দক্ষিণ আফ্রিকায়। ধারাটা অব্যাহত থাকবে। যে যাবে, সে ভালো করবে। দক্ষিণ আফ্রিকা সবার জন্য চ্যালেঞ্জিং। সবার ভেতর বাড়তি চেষ্টাও থাকবে ভালো করার।

প্রশ্ন : দক্ষিণ আফ্রিকাতে কেমন ফল আশা করছেন?

সাকিব আল হাসান : ফল বলা কঠিন। প্রেডিকশন করাও কঠিন ব্যাপার। টেস্ট সিরিজ অবশ্যই কঠিন হবে। ওয়ানডেতে আমাদের খুব ভালো সম্ভাবনা আছে। টি-টোয়েন্টি বলাটা কঠিন। কারণ ওরকম কন্ডিশনে আমরা ৬-৭ বছরের বেশি সময় খেলিনি। স্বাভাবিকভাবেই আমাদের জন্য অনেক চ্যালেঞ্জিং হবে। ওয়ানডের তুলনায় টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট বেশি কঠিন হবে।

প্রশ্ন : আপনার এই নজির ধরে অন্যরাও বিশ্রাম চাইলে, কী হবে?

সাকিব আল হাসান : যদি কখনো কারো মনে হয় যে, আমার আসলে খেলা বেশি হয়ে যাচ্ছে বা বেশি খেলেছি অথবা একটি বিরতি দরকার, তবে আমি মনে করি, তাদের অবশ্যই মন থেকে বলা উচিত। এটা তাদের ক্যারিয়ার আরো ভালোই হতে পারে। আমি ধরেন, এখন ইচ্ছে হচ্ছে না, তবু জোর করে খেললাম, আপনারাই বলবেন, আমাকে বাদ দেওয়া হোক।

Comments

comments

Top