যে শিশুর মর্মস্পর্শী কাহিনীতে কেঁদেছিলো বিশ্ব।

FB_IMG_1501227056456.jpg

কলোম্বিয়ান এই মেয়েটির নাম- ওমাইরা স্যানচেজ গারজোন (Omayra Sánchez Garzón )।
১৯৮৫ সালের ১৩ নভেম্বর দেশটির “আর্মেরো” নামক স্থানে ভয়াবহ এক আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল। ধ্বংস হয়েছিল ১৩টি গ্রাম।
১৩ বছরের এই মেয়েটিও ওই দুর্যোগে মারা যায়।
ভূমিধ্বসে স্যানচেজ তার বাসায় কাদা-পানির ভেতরে কংক্রিটের দরজায় আটকে গিয়েছিল। তিনদিন ধরে সে হাঁটু মোড়ানো অবস্থায় আটকে ছিল। যন্ত্রণায় কাতর স্যানচেজ বাঁচার জন্য কষ্ট চেপে অপেক্ষা করেছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় উদ্ধারোপযোগী যন্ত্রপাতি না থাকায় তাকে উদ্ধার করা যাচ্ছিলো না।
চোখ লাল হয়েছে, মুখ ফুলে গেছে, হাত সাদা হয়ে গেছে, তবু স্যানচেজ বাঁচতে চেয়েছিল।
এই অবস্থাতেও সে এক সাংবাদিককে গান শুনিয়েছিল,মিষ্টি খাবার খেতে চেয়েছিলো, সাক্ষাৎকার দিতেও রাজি হয়েছিল,ভয় পেলে সে প্রার্থনা করতো, কাঁদতো।
সাংবাদিক ও উদ্ধারকর্মীদের বলতো বিশ্রাম নিয়ে আসতে।তার কাছে থাকতে হবে না।
তৃতীয় রাতে তার হ্যালুসিনেশন হওয়া শুরু করে। সে বলেতো “স্কুলে দেরি করে যেতে চায় না” আর “অংক পরীক্ষার কথা বলতো”।
অবশেষে উপায়ন্তর না দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তাকে মরে যেতে দেওয়াই বেশি মানবিক।
মেয়েটা মরে যায়।
স্যানচেজের পরিবারে বেঁচে গিয়েছিল তার মা ও ভাই, আর মারা গিয়েছিল তার বাবা ও বোন।
.
এই মর্মস্পর্শী ছবিটা তুলেছিলেন ফ্রাংক ফোর্নিয়ার, শিরোনাম দিয়েছিলেন- “The Agony of Omayra Sánchez”। ১৯৮৬ সালে ছবিটা ‘ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো অব দি ইয়ার’ পুরস্কার লাভ করে।
.
ছবিটা বিশ্ববাসীকে কাঁদিয়েছিলো। বিশ্ব বিবেকে লেগেছিলো ধাক্কা।

Comments

comments

Top