শিশু লিজা হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলো খুনিরা

28083.jpg

শরীয়তপুরের স্কুল ছাত্রী লিজা আক্তারকে খুনের পর দুই খুনি ঢাকায় বেড়াতে আসেন। সোমবার জিজ্ঞাসাবাদে এ কথা জানিয়েছেন হত্যা মামলার দুই আসামি জাকির হোসেন শেখ, ফরিদ শেখ। নিখোঁজ হওয়ার আটদিন পর পাটক্ষেতের পানিতে ভাসমান অবস্থায় অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশ উদ্ধারের তিনদিন পর মামলা হয়। মামলার পর ওই দুইজনকে আটক করা হয়।
সখিপুর থানা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর সরদার কান্দি গ্রামের লেহাজ উদ্দিন শেখ এর কন্যা ১ নং সখিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণীর ছাত্রি লিজা আক্তার (১০) গত ১৫ জুলাই সকাল অনুমান সাড়ে ৯ টায় বাড়ি থেকে ১০ টাকা নিয়ে ভাড়ায় সাইকেল চালাতে যায়। এরপর সে আর বাড়ি ফেরেনি।
স্থানীয় জাকির হোসেন শেখ (লিজার চাচাত ভাই) লিজাকে তার কাছে এনে দেওয়ার জন্য তারই আত্মীয় ফরিদ শেখকে ৫০ হাজার টাকার প্রস্তাব দেয়। টাকার লোভে ফরিদ শেখ ওইদিন লিজাকে কৌশলে নিজের কাছে রাখেন। এরপর এক পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে যায়। এরপর গলা টিপে হত্যা করে জাকির শেখ এর পরিত্যক্ত বাড়ির খাটের নিচে কাথা দিয়ে লাশ ঢেকে রাখে। এরপর তারা দুইজনে তাদের স্বাভাবিক কাজকর্ম করে। ওইরাতে অনুমান সাড়ে ৮টায় জাকির ও ফরিদ মিলে একটি ভ্যানে করে বাড়ি থেকে প্রায় ১ কি. মি. দূরে পার্শ্ববর্তী ছৈয়াল কান্দি বুলবুল সরদারের পাটক্ষেতের পাশে পানিতে ফেলে যায়। এরপর জাকির ও ফরিদ দুজন মিলে ঢাকায় চলে যায়। কয়েকদিন শেষে আবার বাড়ি ফিরে আসে।
ঘটনার দিন লিজা সন্ধ্যায় বাড়িতে না ফেরার পর তার বাবা মা অনেক খোঁজাখুঁজি করে পরদিন (রোববার) ১৬ জুলাই সখিপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে লিজার বাবা মা ফরিদ শেখকে একটু সন্দেহের চোখে দেখে। তাদের ধারণা ছিল ফরিদ তার মেয়েকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ চলে গেছে। কেননা ফরিদ মাঝে মধ্যে লিজাকে টাকা পয়সা দিত এবং ওর সঙ্গে কথাবার্তা বলত। দীর্ঘ ৮দিন পরে ২২ জুলাই শনিবার সকালে ছৈয়াল কান্দি পাটক্ষেতের পাশে স্থানীয় লোকজন ভাসমান অবস্থায় লিজার অর্ধগলিত লাশ দেখতে পায়।
এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে লিজার চাচি নাছরিন গিয়ে পরনের জামা কাপড় দেখে লাশ শনাক্ত করেন। সখিপুর থানা পুলিশ খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্তকালে কর্তব্যরত ডাক্তার লিজার মরদেহে লিভার, কিডনি, পাকস্থলীসহ গুরুত্বপূর্ণ অর্গান পায়নি। এতে ভিন্নভাবে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। তিনদিন পর রোববার গভীর রাতে লিজার বাবা লেহাজ উদ্দিন শেখ বাদী হয়ে সখিপুর থানায় দুইজনকে আসামি করে মামলা করে।
পুলিশ সুপার মো. এহসান শাহ বলেন, লিজার বাবা মার সন্দেহ ও গোপন তদন্তেরভিত্তিতে ফরিদ শেখকে আটক করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর জাকির শেখ এর সহায়তায় লিজাকে হত্যা করেছে বলে স্বীকার করেছে। পরে জাকির শেখকে ও গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার অধিকতর তদন্ত চলছে।

Comments

comments

Top