শীর্ষ মানবপাচারকারী বার্মাইয়া আবু নফরের রম্য অট্টালিকা!

pict_20790.jpg

নিউজ ডেস্ক:  কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের আওতাধীন ঝিলংজা উত্তর ডিককুল এলাকায় বিশাল বনভূমি দখল ও পাহাড় কেটে রম্য অট্টালিকা গড়ে তুলেছে শীর্ষ মানবপাচারকারী বার্মাইয়া আবু নফর নামের এক ব্যক্তি। পাহাড় কেটে অন্তত আরো ৪০টির অধিক প্লট বানিয়ে বনভূমি বিক্রি করেছে মানবপাচারকারী এই রোহিঙ্গা। বনবিভাগ সহ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এসব অপকর্ম করছে বলেও প্রকাশ্যে হুংকার ছাড়েন রোহিঙ্গা নফর।মানব পাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ত সন্দেহভাজন ৪৬১ ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবের খোঁজে নেমেছেন গোয়েন্দারা। সম্প্রতি বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে দেশের সব ব্যাংককে ওই ৪৬১ জনের তালিকা পাঠিয়ে তাদের নামে কোনো হিসাব বর্তমানে বা পূর্বে পরিচালিত হলে তার তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে। এসব ব্যক্তির নামে কোনো মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব পরিচালিত হলেও তার তথ্য পাঠাতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে বিএফআইইউ সূত্রে জানা গেছে। এই তালিকার মধ্যেও রয়েছে শীর্ষ মানবপাচারকারী আবু নফর।

জানা গেছে, রোহিঙ্গা আবু নফর আরএসও সদস্য হওয়ার সুত্র ধরে প্রবেশ করে বাংলাদেশে। টেকনাফ আনরেজিষ্ট্রার্ড ক্যাম্পে বেশ কিছুদিন অবস্থানের পর জড়িয়ে পড়েন মরণ নেশা ইয়াবা ব্যবসায়। আস্তে আস্তে ইয়াবা ব্যবসার বিস্তৃতি লাভ করার পর আরএসও (রোহিঙ্গা সলিডাটারি অর্গানাইজেশন) নেতা ও বর্তমান কারান্তরিন জঙ্গি ছলাউল ইসলামের হাত ধরে পাড়ি জমা মধ্য প্রাচ্যে। সেখানে রোহিঙ্গাদের পুঁজি করে বিশাল অংকের টাকা তুলে ফের চলে আসে দেশে। অবস্থান গেড়েন কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ ডিককুল এলাকায়। কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের কিছু দুর্নীতিবাজ বনকর্মীদের মোটা অংকের টাকায় ম্যানেজ করে বিশাল বনভুমি দখল করে রাখে। বনভুমিতেই গড়ে তুলেন রোহিঙ্গা পল্লী। জমি বনবিভাগের হলেও সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করে প্লট আকারে লাখ লাখ টাকায় অন্তত ৪০ টি প্লট বিক্রি করেছে। কক্সবাজার ও টেকনাফ সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত অর্ধশত ব্যাংক একাউন্ট এবং এ ব্যক্তির নামে কোটি কোটি টাকার মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব পরিচালিত হয়েছে বলেও সুত্রে প্রকাশ।

দক্ষিণ ডিককুল এলাকায় বসবাসের সুযোগে স্থানীয় একজন প্রতিনিধির সাথে হাত করে ভোটার তালিকায়ও নাম লেখান এই রোহিঙ্গা আবু নফর। অবশ্য পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন থেকে তদন্ত করে রোহিঙ্গা আবু নফরের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাতিলও করা হয়েছে।

কারান্তরিন আরএসও নেতা জঙ্গি ছলাউল ইসলামের সাথে আতাঁত করে জঙ্গি কানেকশনে জড়িয়ে পড়ে জঙ্গিদের অর্থায়নও করে সে।

স্থানীয় সুত্র জানায়, ইয়াবা, মানবপাচার, জঙ্গিদের অর্থায়নসহ বিভিন্ন ভাবে ভয়ংকর সব অপরাধ কর্মকান্ড অব্যাহত রাখে। জনপ্রতিনিধি সাজার জন্য স্থানীয় ইউপি নির্বাচনে সদস্য পদে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করেও ভোটার তালিকা হতে বাদ দেয়ায় আর নির্বাচনও করতে পারেনি।
অভিযোগ রয়েছে, জঙ্গিদের অর্থায়নের সুবাদে এই রোহিঙ্গা নফরকে ঝিলংজা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতির পদও দেয় ইউনিয়ন বিএনপির পদস্থ নেতারা।

স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতা জানান, রোহিঙ্গা আবু নফরের বিরুদ্ধে সুনির্দৃষ্ট ভাবে ইয়াবা, মানবপাচার ও জঙ্গিদের অর্থায়নের অভিযোগে ওয়ার্ড সভাপতির পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়।

ঝিলংজা ইউপির ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি দুধু মিয়া বলেন, রোহিঙ্গা আবু নফর একজন শীর্ষ ইয়াবা ও মানবপাচারকারী। তাকে বহিস্কার করা হয়েছে। সে এখন বিএনপির কেউ নন।

সরজমিন দেখা গেছে, রোহিঙ্গা আবু নফর দক্ষিণ ডিককুল এলাকায় বনবিভাগের জমি ও খাস জমি দখল করে সেখানে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করেছে দুটি বাড়ি। একটি ভবনের নাম দেয়া হয়েছে হাজি আবু নফর মঞ্জিল ও অপরটির নাম দেয়া হয়েছে হাজি আবুল নফর মঞ্জিল ২। পাশে মার্কেটও নির্মাণ করেছে। বাড়ি দু’টির চার পাশে পাকা বাউন্ডারী, বিলাস বহুল গেইট স্থাপন করা হয়েছে। এসব দালানে প্রতিষ্টিত ইয়াবা ও মানবপাচারকারী রোহিঙ্গাদের ভাড়া দিয়েছে। ওই দক্ষিণ ডিককুল এলাকায় কয়েক কোটি টাকার জমিও কিনেছে। এছাড়াও ঢাকার নয়াপল্টন সহ বিভিন্ন স্থানে কয়েক কোটি টাকার ফ্ল্যাটও কিনেছে বলে একটি দায়িত্বশীল সুত্র নিশ্চিত করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে রোহিঙ্গা আবু নফর সহ ৪৬১ ব্যক্তির তালিকা বিএফআইইউতে পাঠিয়ে তাদের আর্থিক লেনদেনের তথ্য চাওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় বিভিন্ন উৎস থেকে জেনেছে যে, আবু নফর সহ ওইসব ব্যক্তি মানব পাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এমনকি তাদের মধ্যে আবু নফরসহ কেউ কেউ মানব ও মাদক পাচারের গডফাদার। মন্ত্রণালয়ের চাহিদা অনুযায়ী বিএফআইইউ ব্যাংকগুলোকে তালিকাসহ চিঠি দিয়েছে।

বিএফআইইউ থেকে পাঠানো তালিকায় যেসব নারী-পুরুষের নাম রয়েছে, তাদের অধিকাংশেরই বাড়ি টেকনাফ ও কক্সবাজার সদর এলাকায়। কিছু রোহিঙ্গা নাগরিকের নামও রয়েছে তালিকায়। যাদের মধ্যে লেদা অনিবন্ধিত শরণার্থী শিবিরের এ, বি, সি, ডি ও ই ব্লকের কয়েক ব্যক্তি রয়েছে। আবার নিবন্ধিত শরণার্থী শিবিরের ব্যক্তিরাও রয়েছে। রয়েছে কক্সবাজার এলাকার রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নামও।

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে দেশের সব ব্যাংককে ৪৬১ জনের তালিকাভুক্ত মানবপাচারকারী আবু নফরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ি দাবী করেন এবং রোহিঙ্গা হিসেবে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন।

Comments

comments

Top