২ অবুঝ বাচ্চার কান্নার দায় কার?

received_10206180296306746.jpeg

জাহাংগীর আলম শুভ: সিএমপির আলোচিত ওসিকে বেআইনি শাস্তি দান। ডিসি মিডিয়ার তথ্যগত ভুলের বিচার করেনি কেউ।

আইনের লোকই যদি আইনের লোকের দ্বারা শাস্তি পায়,তাও বিচারবিহীন, তাহলে সাধারন জনগনের কি হাল হবে তা সহজেই অনুমেয়। কষ্টের ব্যাপার হলো সেই শাস্তির প্রভাব যদি ২টি অবুঝ বাচ্চার উপর বর্তায়,তাদের কান্নায় যদি ঘরে থাকাটাই দায় হয়ে পড়ে, পৃথিবীর এমন কোন বাবা আছে সন্তানের কান্না নিরবে সহ্য করতে পারে। আমার মনে হয় সিএমপির কোন কর্মকর্তার বেলায় যদি অনুরুপ একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে, তাহলে তিনি কি চুপ থাকতেন?


চট্টগ্রামের আলোচিত, সমালোচিত ওসি মাইনুল ইসলাম ভূঁইয়া তেমনি এক বিচারবর্হীভূত, অন্যায় শাস্তির মুখোমুখে হয়ে মানুষিক ভাবে ভেংগে পড়েন।
অবুঝ শিশুর কান্না, সামাজিক অবস্থান, অপরাধের বোঝা মাথায় নিয়ে নিজ ঘরেই পরবাসী, সব কিছুর পিছনে একটি মাএ কারন। তা হলো ডিসি মিডিয়ার ভুল প্রেসরিলিজ।

ডিসি মিডিয়া থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তি, যাতে স্পস্ট ভাবে উল্লেখ করা হয়, খুলশী হাবিব লেইনে অবস্থিত বেনামী গেষ্টহাউজটি যাকে বলা হয় ইয়াবা গেষ্ট হাউজ, সেটি ওসি মাইনুল ইসলাম ভূঁইয়ার। আর তাতেই হামলে পড়ে প্রিন্ট এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া। টিভির ব্রেকিং নিউজে এবং পএিকার শিরোনামে মাইনুলকে বলির পাঠা বানানো হয়। আসলেই কি মাইনুল ইসলাম ভূইয়া দোষী ছিলো সেইদিন? নাকি নির্বাহী ম্যাজিষ্টেট তাহমিলুর রহমানের ভুল বিচারের শাস্তি পেল ওসি মাইনুল। আসুন দেখি নেই আলোচিত, সমালোচিত, ওসি মাইনুলের অপরাধ নামা। পাঠকের মনে জন্ম দেওয়া প্রশ্ন, মাইনুল ইসলাম কি কোন ষড়যন্ত্রের স্বীকার কিনা।

জেলা প্রশাসকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কতৃক অভিযান।গ্রেফতার ১৫.সাজা, কোন দালিলিক প্রমানপএ ছাড়াই ওসি মাইনুলের নাম উল্লেখ করে, ডিসি মিডিয়া কতৃক প্রেসবিজ্ঞপ্তি। ::

গত ১৮ই জানুয়ারী নগরীর খুলশী থানাধীন হাবিব লেইন এলাকায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষা নাগরিক কমিটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্টেট তাহমিলুর রহমান ৫তলা বেনামী রেষ্ট হাউজে অভিযান পরিচালিত করে, ৪বোতল ভোতকা,কলগালদের নামের তালিকা, ১লক্ষ ৯শত ৯০ টাকা,ইয়াবা সেবনের সরন্জাম, ১১জন মেয়ে সহ ১৫জনকে গ্রেফতার করে।১১জন মেয়েকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়ে বাকি ৪জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। বিকালে বিভিন্ন মিডিয়াতে প্রেসরিলিজ পাঠানো হয় ডিসি মিডিয়ার পক্ষথেকে। প্রেসরিলিজে ওসি মইনুল ইসলামের নাম এবং তার গেষ্ট হাউজ উল্লেখ করা হলেও, কোন সূএ, তথ্য, সেখানে উল্লেখ করা হয়নি।

দালিলিক প্রমানে দেখা যায়, ওই রেষ্ট হাউজ ওসি মাইনুল ইসলাম ভূইয়ার নয়। তা আলম নামের এক ব্যবসায়ীর।
বিল্ডিং টির মালিক মমতাজ বেগম পিতা মৃত আমিনুল হক স্বামী :জয়নাল আবেদিন।তিনি ২০১৬ সালে ১লা জানুয়ারি হইতে ২০২১ সাল পযন্ত, অগ্রিম ৫লক্ষ টাকা জামানত এবং মাসিক ১লক্ষ ৮০ হাজার টাকা ভাড়ার চুক্তিতে আলম নামের এক ব্যবসায়ীকে রোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ভাড়া দেন ২৮/১/২০১৫ ইং।বিগত দিনে পুলিশি অভিযানে পএপএিকায় আলমের রেষ্ট হাউজ নাম প্রকাশ হলে ও, কোন এক অদৃশ্য কারনে ১৮ই জানুয়ারি অভিয়ান শেষে মাইনুলের রেষ্ট হাউজ উল্লেখ করে ডিসি মিডিয়া প্রেসবিজ্ঞপ্তি পাঠায়। সেখানে গ্রেফতারকৃতরা নাকি মাইনুলের নামে রেষ্ট হাউজ উল্লেখ করেন। প্রেসবিজ্ঞপ্তি পাওয়া মাএ মাইনুল ইসলাম টিভির ও পএিকার শিরোনাম হয়ে যায়। যেখানে জেলা প্রশাসক কতৃক প্রেসবিজ্ঞপ্তি পাঠায়,সেখানে মিডিয়ার কিছু বলার থাকেনা।
পরবর্তীতে প্রমান হলো ডিসি মিডিয়ার প্রেসবিজ্ঞপ্তি সঠিক ছিলোনা। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কোন দালিলিক প্রমান ছাড়াই একজন ওসিকে বেআইনি শাস্তি দিলো।

আইনানুযায়ী দালিলিক প্রমান থাকলেই কেবল কাউকে অপরাধী হিসাবে বিবেচনায় আনা যাবে।এবং ম্যাজিস্ট্রেট কতৃক পাঠানো প্রেসবিজ্ঞপ্তি বেআইনি উল্লেখ করেন প্রবীণ আইনজীবী ইফতেখার সায়মুন চৌধুরী।
এই ব্যাপারে সিএমপির পক্ষ থেকে পাল্টা কোন প্রেসবিজ্ঞপ্তি না আসার ফলে, নির্দোষ হয়ে ও আসমীর কাঠগড়ায় ওসি মাইনুল ইসলাম ভূইয়া। ফলে স্কুলে অবুঝ দুই বাচ্চাদের নিয়ে সহপাঠীদের প্রশ্ন,স্ত্রীর দিকে আংগুন উঁচিয়ে অবিভাবকদের টিপ্পনী। সামাজিক সম্মানহানি, হতাশা ঘিরে ধরে আলোচিত ওসি মাইনুল ইসলাম ভূইয়াকে।

বিভিন্ন ঘটনায় আলোচিত মাইনুল : সাথে কিছু প্রশ্নের জন্মদিলো জনমনে :

৩রা জুলাই, আগ্রাবাদ হোটেল সেন্টমার্টিনে পছন্দের ব্যান্ডের মদ না দেওয়ায়,৪ জন হোটেল কর্মচারীকে মারধর এবং উপপরিদর্শক ডবলমুরিং থানার সৈয়দ আলমকে শারীরিক ভাবে লান্চিত করার ঘটনায়, মিডিয়ায় আবার শিরোনাম হলেন। এই ঘটনায় ৩সদস্য বিশিষ্ট তদন্তকমিটি গঠন করা হয়। তদন্তকারীরা ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন বলে মিডিয়ায় প্রকাশ পায়।

নির্ভর যোগ্য সূএ বলছে ভিন্ন কথা। সেই দিন ওসি মাইনুল ৪১৫নং রুম বুক করে ছিলেন। হোটেল কতৃ পক্ষ তার কাছে বকেয়া কোন বিল পাবেনা, আঘাত প্রাপ্ত ৪জনের থানায় লিখিত অভিযোগ নেই।সূএ বলছে ওসি মাইনুল শুধু ৩ তারিখ নয়,বিগত ৩/৪ মাস প্রায় সেন্টমার্টিনে অবস্হান করতেন। সিসি টিভির ফুটেজ দেখলে তার প্রমান মিলবে।আর সেখানকার সবাই ওসি মাইনুলকে চিনতো। তাহলে তিনি এতদিন কেন মাতাল হননি? কেন তিনি কাউকে মারেননি? ঔ দিন কি এমন ঘটনা ঘটেছিল, যাতে তিনি পিস্তল দিয়ে গুলি করার হুমকি দিবেন? ঘটনা ঘটিয়ে আবার কেন তিনি হোটেলে আসবেন?

যিনি বিগত ৪/৫ টি থানায় ওসির দায়িত্ব পালন করেছিলেন, তিনি কতটা পাগল হবেন যে ইউনিফর্ম পরিহিত কোন এস আইকে অযথা গাড়ী থেকে নেমেই গায়ে হাত তুলবেন? তিনি কি আইন জানতেন না?
সৈয়দ আলম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জনাব মহিউদ্দিন সেলিমকে ফোন না দিয়ে সরাসরি উপপুলিশ কমিশনারকে ফোন দিলেন? উপপুলিশ কমিশনার ওসি মহিউদ্দিন সেলিমকে ফোন করে পরবর্তীতে ঘটনাস্হলে পাঠান। (সূএ:বাংলানিউজ)
চট্টগ্রামে প্রভাবশালী ও চৌকস পুলিশ অফিসার মহিউদ্দিন সেলিম।সৈয়দ আলম তাকে ফোন না দিয়ে সরাসরি উপপুলিশ কমিশনারকে ফোন দেওয়া কি প্রশ্নবিদ্ধ নয়? তিনি ফোন দিতেই পারেন, তবুও চেন অব কমান্ড বলে কিছু আছে। কিন্তু নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেখানকার একজন নিরাপওা কর্মী বলছে ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, মূলত সৈয়দ আলম ওসি মাইনুলের পিস্তল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। হয়তো আলমের ধারনা ছিল মাইনুলের কাছে পিস্তল থাকলে কোন অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। না হয় মাইনুলের কাছে রক্ষিত পিস্তল অবৈধ মনে হতে পারে বলেই, আলম পিস্তল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। অন্যদিকে মাইনুল সেটাকে বেয়াদবি হিসেবে নিয়ে থাকতে পারে বলে ঔ নিরাপওা কর্মী জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিএমপিতে কর্মরত এক পুলিশ অফিসার বলেন :মাইনুল স্যার মহিউদ্দিন স্যারের শীর্ষ, স্যার ও সবসময় মহিউদ্দিন স্যারকে গুরু বলে ডাকেন। আমরা মাইনুল স্যারের অধীনে চাকুরী করেছি। তিনি সবসময় আমাদের আগলে রাখতেন। আমাদের কোন খতি হতে দিতেন না।সেই মাইনুল স্যার মাতাল হয়ে কোন এস আইয়ের গায়ে হাত তুলতে পারে তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। জানিনা আসলে কি ঘটছে।

উওর জেলা আওয়ামীলীগের ত্যাগী নেতা,এবং যুগ্ম সম্পাদক মৃত: নুরুল ইসলাম ভূঁইয়ার সন্তান ওসি মাইনুল ইসলাম ভূঁইয়া।
২০১৫ সালে খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা থাকা বস্হায়, প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার পুএ সজীব ওয়াজেদ জয় এর হাত থেকে শ্রেষ্ঠ পুলিশ অফিসার হিসেবে আসিটি বার্সিস পদক লাভ করে।
২০১৫ সালের ২৩শে এপ্রিল সিটি কর্পোরেশন মেয়র নির্বাচনে ১৩নং ওর্য়াড আওয়ামীলীগ ওর্য়াড কমিশনার প্রার্থী জনাব মোহাম্মদ হোসেন হিরনের পক্ষে কাজ করছে মর্মে নির্বাচন কমিশনারের কাছে অভিযোগ করেন জামায়াত প্রার্থী জনাব মাহফুজ। ফলে ওসি মাইনুলকে প্রত্যাহার করে সদরঘাট থানায় নিযুক্ত করে সিএমপি। পরবর্তীতে ছাএলীগ নেতা জিল্লুকে তার স্ত্রী সহ সদরঘাট একটি হোটেল থেকে গ্রেফতার করে ১৯শে মার্চ ২০১৬ সালে। জিল্লুকে গ্রেফতার করার অজুহাতে ছাএলীগ রাস্তা অবরোধ, মিছিল মিটিং করে মাইনুলের অপসারণ দাবী করে। জিল্লু মাইনুল ইসলাম সহ ৪জনকে আসামী করে আদালতে মামলা করলে ক্লোজ করা হয় তাকে।
উল্লেখ্য জিল্লু বন্দর এমপি আবদুল লতিফের বিরুদ্ধে শেখ মুজিবর রহমানের ছবি বিকৃত করা মামলার বাদী এবং মহিউদ্দিন চৌ অনুসারী।

এখন প্রশ্ন হলো ওসি মাইনুল ইসলাম কি আলোচিত? নাকি তাকে আলোচনায় আনা হয়েছে।
খুলশী থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয় তাকে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার তাগিদে। নির্বাচন যাতে প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, এবং বিরোধী দল যাতে কোন ইস্যু তুলতে না পারে, সেই কারনে নির্বাচন কমিশন যে কোন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সরাতেই পারেন। এটা কি তার কোন অযোগ্যতা প্রমান করে?নাকি এটা চাকুরীর একটি অংশ?

মহিউদ্দিন চৌধুরী অনসারী জিল্লুকে হোটেল থেকে তার হবু স্ত্রী সহ গ্রেফতার করে।যেহেতু মহিউদ্দিন চৌধুরী এবং এমপি লতিফ তখন গ্রুপিং। মহিউদ্দিন অনুসারীরা তখন ভেবেছিল এইটা এমপি লতিফের কারসাজি, জিল্লু হলো এমপি লতিফের বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী। সুতরাং রাজনীতির নোংরা বলির স্বীকার হলেন তিনি। মহিউদ্দিন অনুসারীদের দখলে ইসলামিয়া কলেজ এবং সিটি কলেজ, সদরঘাট থানা এলাকা সুতরাং আন্দোলন করতে দেরী হয়নি। কেউ তখন প্রশ্ন তুলেনি একজন ছাএনেতা তার হবু স্ত্রী নিয়ে হোটেলে অবস্থান করবে কেন? না করনি।
হোটেল রেইড করা পুলিশের কাজ। সেই কাজ পুলিশ পালন করতে গিয়ে হয়ে গেলেন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ?! এখানে তার দোষ কোথায় ছিল? সেই প্রশ্ন আজো অমিমাংশিত। তাহলে আবাসিক হোটেল কেন  অভিযান মুক্ত করলোনা সিএমপি?  না। ওসি মদ খেয়ে মাতাল হয়েছে, তদন্ত কমিটি গঠন হলো। সে দোষী হলে তার শাস্তি হোক। কিন্তু পুরো সিএমপির মুখে কালিমা লেপনকামী জেলা প্রশাসকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তার ব্যাপারে কি ভূমিকা নিয়েছিল সিএমপি? কেন সেই দিন প্রমান থাকার পরে ও প্রতিবাদ জানায়নি? ২ অবুঝ শিশুর কান্নার দায়ভার কে নিবে? সামাজিক অসম্মানের দায় কার? আমাদের সন্তানের আদর্শ হলো তার পিতামাতা।সেই সন্তানের কাছে অনৈতিক কাজে সহায়তাকারী হিসেবে উপস্হাপনের বিচার কে করবে? সন্তানের কান্না এবং লজ্জার হাত থেকে পালিয়ে থাকার বিচার করবে কোন আদালত?
আমরা ও চাই ওসি মাইনুল ইসলাম ভূঁইয়া বিচারে দোষী প্রমানীত হলে তার বিচার হোক। কঠোর শাস্তি হোক তার। তবে অবুঝ ২টি বাচ্চাকে অপমানের হাত থেকে বাঁচানোর দায়িত্ব কে নিবে।

Comments

comments

Top