ফেসবুকে কাবা অবমাননার ছবি পোস্ট : বিক্ষোভে উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ

west-bengal20170705123947.jpg

শুরুটা হয়েছিল রোববার। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার এক তরুণের কুরুচিপূর্ণ ছবি পোস্ট ঘিরে বসিরহাট মহকুমায় শুরু হয় তাণ্ডব। মুসলমানদের পবিত্র কাবাঘরের আপত্তিকর ছবি ফেসবুকে পোস্ট করা নিয়ে ওই তাণ্ডবের শুরু হয়েছে। ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেন, ফেসবুকে যদি কেউ কিছু বলে, তুমি তার পাল্টা বলো। তুমি কাউন্টার না করে রাস্তায় নেমেছ কেন?

দু’দিনে অন্তত ১৫টি পুলিশের গাড়িসহ বহু দোকানপাট ভাঙচুর করে পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এসপি ও এএসপিসহ অন্তত ২০ পুলিশ সদস্য। এছাড়া আহত আরও ৮ জনের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

শৌভিক সরকার নামে বাদুড়িয়ার এক তরুণকে রোববার রাতে গ্রেফতার করা হয়। রাতেই বাদুড়িয়ার গ্রামে গিয়ে পুলিশ মাইকে আশ্বাস দেয়, অভিযুক্ত গ্রেফতার হবেই। রাত ৩টা নাগাদ পাটক্ষেতে লুকিয়ে থাকা শৌভিককে ধরা হয়। কিন্তু ততক্ষণে বিষবৃক্ষের চারা পোঁতা হয়ে গেছে। বাদুড়িয়া, বসিরহাট, স্বরূপনগর, হাড়োয়া, দেগঙ্গা, হিঙ্গলগঞ্জ, হাসনাবাদে উত্তেজনা ছড়াতে থাকে পোস্টটি নিয়ে। সোমবার বাদুড়িয়ার নানা জায়গায় রাস্তা অবরোধ করা হয়। কিছু লোক আবার পাল্টা অবরোধ করে স্বরূপনগরে।

সোমবার সন্ধ্যায় রটে যায়, শৌভিককে বাদুড়িয়া থানায় এনেছে পুলিশ। গুজবের বশেই থানা ঘিরে ফেলে কয়েক হাজার মানুষ। দাবি, অভিযুক্তকে তাদের হাতে তুলে দিতে হবে। পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করে। এলাকার ধর্মীয় নেতারা এসেও জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। লাভ হয়নি। উল্টো থানার সামনে পুলিশের তিনটি গাড়ি জ্বালিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। এর মধ্যে বসিরহাটের ত্রিমোহিণীতে কিছু দুর্বৃত্ত দোকানপাট ভাঙতে শুরু করে। রাতে শৌভিকের বাড়ি পুড়িয়ে দেয় তারা।

মঙ্গলবার সকাল থেকে পাল্টা প্রতিরোধে নামে আর একদল। তারা ত্রিমোহিণী এলাকায় গাড়ির শো-রুম, দোকান, শপিং মলে ভাঙচুর চালায়। স্টেশন রোড, স্বরূপনগর, বাদুড়িয়ার কিছু দোকানে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। বসিরহাট চৌমাথার কাছে পুলিশের গাড়ি উল্টে দেয়া হয়। দা-তলোয়াড়-কুঠার নিয়ে শহরের বুকে ঘুরতে দেখা যায় দু’পক্ষের লোকজনকে।

প্রায় সকলের বয়স ২০-২২। পুলিশের দাবি, সীমান্তবর্তী এলাকার দুর্বৃত্তরাও সেই ভিড়ে মিশে ছিল। সকাল ১০টা নাগাদ বাদুড়িয়ার মলয়পুর থেকে ৪-৫ জনকে ধরে আনতে গিয়ে মার খায় পুলিশ। আহত হন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায়ও আহত হন। দুর্বৃত্তরা রাস্তা কেটে আটকে দেয় পুলিশের গাড়ি। বোমা-গুলি পড়তে থাকে মুহূর্মুহূ। শেষ পর্যন্ত পুলিশের হাত থেকে ধৃতদের ছিনিয়ে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

বসিরহাট ও বনগাঁর বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ইন্টারনেট, ওয়াইফাই সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসক অন্তরা আচার্য জানিয়েছেন, বাদুড়িয়াসহ কয়েকটি এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি হয়েছে। বুধবার বন্ধ থাকবে এলাকার স্কুল-কলেজ ও অফিস।

সূত্র : আনন্দবাজার।

এসআইএস/পিআর

Comments

comments

Leave a Reply

Top